দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের শিল্প, পরিবহন থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন; অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি খাতই নির্ভরশীল জ্বালানির ওপর। অথচ সরবরাহ ঘাটতি, আমদানিনির্ভরতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় বারবার তৈরি হচ্ছে সংকট। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে।
এই বাস্তবতায় শুধু সরকারি বিনিয়োগের ওপর নির্ভর না করে জ্বালানি খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়াতে চায় সরকার। এলএনজি আমদানি, টার্মিনাল নির্মাণ, গ্যাস অবকাঠামো, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো হলে সরকারের বিনিয়োগের চাপ কমবে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।
এই বাস্তবতায় দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে বড় পরিসরে যুক্ত করতে চায় সরকার। বিশেষ করে আমদানি, অবকাঠামো ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বাড়াতে চায় বেসরকারি বিনিয়োগ।
সরকারের দাবি, শক্তিশালী নীতিমালার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাজারে প্রতিযোগিতা। তবে বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, কৌশলগত এই খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ কতটা নিরাপদ? আর এর সুফলই বা কতটা পৌঁছাবে ভোক্তার কাছে?
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকেও রয়েছে বড় সম্ভাবনা। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে বাড়বে শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, কমবে ব্যবসার অনিশ্চয়তা। একই সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি তৈরি হতে পারে কর্মসংস্থানের সুযোগ।
তবে প্রশ্নের জায়গা জ্বালানি সাধারণ কোনো পণ্য নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির কৌশলগত খাত।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলছেন, বেসরকারি বিনিয়োগে মুনাফার লক্ষ্য আর জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। তবে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হলে প্রতিযোগিতার বদলে তৈরি হতে পারে একচেটিয়া বাজার। যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পড়তে পারে জ্বালানির দাম ও ভোক্তার ওপর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করলেই হবে না; দরকার স্বচ্ছ দরপত্র, প্রতিযোগিতামূলক বাজার, মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো।
কে